সুখী গৃহকোণ আর সমাজ ?

চলো এবার উল্টো দিক দেখি,
পারিবারিক প্রেক্ষাপট আদৌ বিভাজিত নাকি?
রোগ কি খুব ছড়িয়েছে নাকি উলটপুরাণ রয়েছে অস্তিত্বে,
বোধগম্যতা হ্রাস পেয়েছে নাকি নাক উঁচুর প্রতি আস্থা, পূর্ণতা দিচ্ছে,

উল্টো গল্প পড়ছে চাপা, অবলা কত আত্মত্যাগের গল্প,
মানিয়ে গুছিয়ে চলছে বেশ ভালোই, তোয়াক্কা নেই সমাজে কে কি বললো,
সমাজমাধ্যমে ওদেরও ভালো ছবি, অন্ধকার সুরক্ষিত,
প্রকাশ্যে ওদের সাহস দেখাতে হয় না, মনে সব পরীক্ষিত,

নিরাপত্তাহীনতা ওদের ঠিক আসে না, মাঝে মধ্যে চোখে হারায়,
দুশ্চিন্তা গুলো একটু অন্য রকমের, বাকি লড়াইটা যাতে ঠিক লড়া যায়,
পড়াশোনা, চাকরি সবই চলছে, কেউ থেমে নেই এক বিন্দুতে,
ওরা জানে, আজকের পাঁচ হাজার কালকের পাঁচ কোটির যাত্রা করতে পারে,

শরীর খারাপ ও হয় ওদের, ঠিক সামলে ফেলে তারা,
আমার আমি আর তোমার তুমির মাঝে এক সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা,
ভয় চারদিকে, সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে কিছু আইনরুপী সন্ত্রাসবাদী,
তথ্য প্রমানের যুগে আজও ওদের কথাবার্তা খুঁটি নাটির চেয়ে ঢের বেশি,

বলতে গেলে, বুদ্ধি প্রচুর মানুষ দেয়, বাকিটা নিজের মস্তিষ্কের উৎকর্ষতা,
নিম্নে আর উচ্চে খুব বেশি নেই, সেরকম বড়ো সমস্যা,
বোঝা, শোনা, ক্ষমতা বেশ রয়েছে, উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার,
আবেগের জগতে আইন চলে না, এলেই ধরা, অধরা দের দিকে চলে, আঁধারের স্বচ্ছতা,

কিন্তু ঘটনা ঘটছে, সবাই দেখছে, বিশ্লেষণ করছে সবাই সবার মতো,
কেউ শাস্তি নেই ভেবে ইন্ধন পাচ্ছে, আবার কেউ ভয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছে, করে নিজেদের মতো,
সমান্তরালে সবাই চলছে, অস্তিত্বে রয়েছে প্রত্যেকে,
বাস্তবে মায়া হেরে যায় ভাবলেও, শেষমেষ ভ্রমিত থাকার ইচ্ছে ঠিক ওপরে স্থান পাচ্ছে,

ইচ্ছেদের সাথে বাস্তবের লড়াই হয় সবারই মনোজগতে,
কারণ সবাই সবকিছুই দেখছে তবু, সবাই সবাইকে যেন বেশ ভালো ভাবেই চেনে,
এই চেনার ওপর বিশ্বাস আজকাল বেশ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখা মেলে,
লিভার পচে যাওয়ার ভয়ে, নেশা করা কি মানুষ কম করে?

তাই ভীমরতি ছিল আগেও, রয়েছে, আগামীতেও থাকবে,
হয়তো পরিমানে বাড়বে, কর ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে,
সুযোগ থাকবে সর্ব সময়, এক নতুন পরীক্ষার প্রেক্ষাপট রচনা হবে,
সুযোগ বাড়ার সাথে বিভ্রান্তি, তাল মিলিয়ে স্থান নেবে ,

এরপর আপেক্ষিকের খেলা শুরু, যেটা সবারই বেশ জানা,
কেউ পরীক্ষাকে ভয় পায়, আবার কেউ বৃহত্তর খেলার অংশ ভেবে অংশগ্রহণকে করে না মানা,
ফলাফল হাতে নেই কারো, তার জন্য দুশ্চিন্তা করা বৃথা,
ভাঙাচোরাদের মাঝে বোকা হয়ে থাকার মজাটা বেশ আলাদা,

মানব মস্তিস্ক কারো নিয়ন্ত্রণে নেই, যখন তখনই যেতে পারে পাল্টে,
চিনতে ভুল করার প্রেক্ষাপট রচনা হয়, বহু বছরের সময়ের হাত ধরে,
পাল্টে যেতে চাইলে ধরে রাখার চেষ্টা বৃথা, সবাই ভালোই জানে,
সুযোগের সদব্যবহার প্রকৃতিও করে, ইতিহাস নিজে যেন বার বার একই লেখা আবার লেখে,

মানুষ ভোলে, কিছু সময়ের অন্তরালে, দেখতে না পেলে, জানতে না পারলে, কত কিছুই না ভালো লাগে,
অনেকেই জানে না যেমন, আইসক্রিমের নামে দীর্ঘদিন ফ্রোজেন ডেজার্ট খেয়ে চলেছে,
একদিন প্যাকেটের লেখা গুলো পড়তে গেলে, নিজেকে সেরকমই লাগে,
শিক্ষিত হয়ে এগিয়ে চলার নীতি যেমন আমরা গ্রহণ করি পড়ার পর, সেরকম না হওয়াই কি কাম্য হতে পারে?

আমার মনে হয়, আসামি চিহ্নিতকরনে নতুন কিছু নাম অপরাধের খাতায় তোলা কাম্য,
প্ররোচনা দেওয়া, পরক্ষভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়ার কি নয়, অপরাধের তর্জমা প্রাপ্য ?
চাওয়া পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সম্পর্কে , নিশ্চই চাহিদার স্থান রয়েছে,
সীমিত মাটিতে অসীম আকাশের ক্রমাগত দাবি জানানো, কি মানসিক অত্যাচারের কারণ না হতে পারার অজুহাত রেখেছে?

সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আজ চাইল্ড এবিউস যেমন স্বীকৃতি পেলো,
তেমনই বড়োদের এবিউস এর পরিসীমা বর্ধনের, প্রয়োজনের কি ঘাটতি জন্মালো ?
আর কত রক্ত নেবে, আর কত প্রাণ দিতে হবে, তবে কটা শব্দ কলমের খোঁচায় বেরোবে?
সমাজে অদৃশ্য সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে, আর কবে, কিভাবে ওনাদের চোখে পড়বে?

অপরাধী ওরাও, শুধু একটু শিক্ষিত এই যা,
অপরাধীদের কোনো জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ হয় না, আরো কমানো উচিত ওদের অধিকার,
মন আর শরীর প্রকাশ্যে নির্যাতিত হলো, দেখলাম, জানলাম, কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতি আজও পেলো না,
নিরাপত্তাহীনতায় বর্তমান ভুগছে, স্বাভাবিক জীবনের কি নেই, ওদের অধিকার?

আধুনিকতার নামে স্বীকৃতি, লিখিত অলিখিত ভাবে কত কিছুই না পেয়ে যাচ্ছে,
মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের ভালোই, তার জানান সমাজ বার বার দিচ্ছে,
মানুষ অনেক বছর ধরে পরিশ্রম করে যোগ্যতা অর্জন করে, পরিশ্রম করে, করে রোজগার,
সঞ্চিত অর্থগুলো শুধু অর্থ নয়, প্রত্যেকের জীবনের অনেকগুলো বছরের আত্মত্যাগের খতিয়ান,

বোধগম্যতার ঘাটতি কোনো অন্যায় নয়, কিন্তু বোধগম্য অবস্থায় পৌঁছতে না চাওয়া বোধহয় অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে,
স্বীকৃত নয় ওরা অন্যায়দের তালিকায়, শুধু সেই জন্যই কি ওরা মাথা উঁচু করে বাঁচে?
স্বপ্ন দেখা, বড়ো হতে চাওয়া, নামের পাশে শ্রী, যুক্ত করার ইচ্ছে অন্যায় নয় কিন্তু তাদের জন্য চারপাশকে কি এভাবেই উপেক্ষা করা চলবে?
মানুষের নিয়ম নয়, যেন সেই প্রকৃতির নিয়ম, শক্তিশালীর জয় সর্বত্র, এটাই কি বর্তমান আর ভবিষ্যতের কান্ডারি হবে?

প্রশ্ন করা আর মানদণ্ডদের মান বৃদ্ধি করা, সমাজের অগ্রগতির সাথে সমান্তরালে সমান ভাবে কাম্য,
অজুহাতের হাত ধরে অক্সিজেন নেওয়ার বৈধতা আর কতদিন? উপেক্ষিত প্রাপ্য,
অনেক কিছুই নেই ঠিক, কিন্তু করার ইচ্ছে কি আদৌ রয়েছে?
প্রকৃতরা আজও অপেক্ষায়, পরিলক্ষিত তবু, সবকিছু যেন অসমাপ্ত রয়ে গেছে ………….

Leave a Reply