মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঠিক টনক যেন নড়বে না,
প্রাণটা না বেরিয়ে গেলে, কষ্ট যে খুব, সেটা বোঝা হবে না,
এটা তো করতেই পারো বা এটুকু তো করা যেতেই পারে এরূপ মন্তব্য আর আবদারের ভিড়ে, অমান্যতা দেওয়া চলবে না,
নইলে সমাজ, আইন কেউই যেন, তোমার পিছু ছাড়বে না,
সম্পর্কের স্বীকৃতি প্রাপ্য, যার আইনত আর সামাজিক দুই দিক জড়িয়ে রয়েছে,
ত্যাগের পরিসীমা প্রত্যেকের সীমিত, সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সে সব বোঝা বুঝি যেন লাটে উঠেছে,
ঠিক ভুল সবই আপেক্ষিক যেমন, তেমনই ভিন্ন প্রত্যেকের দেওয়ার ক্ষমতা এই দেওয়াকেন্দ্রিক সমাজে,
দেওয়া নেওয়ার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সমাজের প্রত্যেকটা সম্পর্কে দেওয়ার ক্ষমতা কতটা, তা বেশ গুরুত্ব রাখে,
তারপর আসে দেওয়ার বিষয় বস্তু, সেটিও বেশ আপেক্ষিক বিষয়,
চাওয়া কি কি হচ্ছে আর কি কি করতে পারা যেতে পারে, এই নামে নিজেদের জাহির করছে নিজেদের কারা, সেটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,
এভাবে অজান্তেই এক পদ্ধতির সূত্রপাত ঘটতে থাকে,
কেউ অসুবিধে হলে বলতে পারে না প্রথমে, সুনামি জমাতে থাকে,
সুনামি ওঠার আগে যেমন এক থমথমে পরিবেশের সূচনা ঘটে,
জল শুকিয়ে যেন কোথায় চলে যায়, বড়ো ঢেউয়ের খোঁজ নিতে,
একদিন ওরা ফিরে আসে, বহুতল বাড়ির সমান আকার নিয়ে,
কথা বলা শুরু হয় সেদিন, যেদিন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে,
ততদিনে কত অভ্যেস তৈরী হয়ে গেছে, তৈরী হয়ে গেছে অভিসন্ধির বাস্তবায়নের কত ফন্দী,
নিজ সাধ্য, নিজ ক্ষমতা অতিরিক্ত ত্যাগ আর দেওয়ার প্রচেষ্টা ঘুনের কাজ করে চলেছে আর কি,
ফাঁপা হতে শুরু করেছে ভেতরে , বাইরে দেখতে সবল ওই সম্পর্করূপী গাছের কান্ড,
শিকড় হয়তো রয়ে যাবে, উপরে যাবে সোজা কিছু মেরুদন্ড,
যেটা সহজাত নয়, তাকে সহজাত করে নিতে যদি হয় তাহলে, থামতে কোথায় হয়?
নিজের ছেড়ে দেওয়া, মানিয়ে নেওয়া, চেষ্টা, প্রচেষ্টা স্বীকৃতি না পেলে শুধুই কি আলোচনাপর্ব কাম্য হয়?
কখনো কোথাও আলোচনার নেই স্থান, ত্যাগ আর বেড়ে যাওয়া দূরত্ব সব করেছে ইনস্টলমেন্টে শ্রাদ্ধ,
শুধু দিয়ে কোনো সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখা যায় না, মানব রুপী চরিত্র বার বার ইতিহাসে করে গেছে প্রমাণিত।
তাহলে আবদার, চাওয়া, স্নেহ সবই কি মিথ্যে? কিছুই করা চলবে না, তাহলে জীবন কিভাবে চলবে?
আসলে সমস্যা কোনোকিছুতেই নেই, সবই বৈধ, সবই স্বীকৃত, শুধুই রয়েছে ভারসাম্যর ঘাটতি, যার হাত ধরে ঘটে চলেছে কত শ্রাদ্ধ,
দেওয়া, ত্যাগ আর ছেড়ে দেওয়ার রয়েছে সীমা, ব্যক্তিবিশেষে ক্ষমতার সাথে সমানুপাতিক,
এরই মাঝে আবার কেউ বলে বসবে, মনোস্তত্মিকদের নিজেদেরই সম্পর্কগুলো টেকে না, ওখানে আবার সবকিছুই ব্যস্তানুপাতিক,
সমাধানসূত্রের সূত্রপাত হয় ব্যক্তিগতস্তরে,
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট রচে গোপনে, ঝগড়া, অশান্তি খালি অনুঘটক মাত্র, ওই যেমন দাবায় রয়েছে বড়ে,
সমাধান মুখে বলে চলে যাওয়া বেশ সহজ, পরিস্থিতিতে যে রয়েছে সেই শুধু ভোগ করে,
বড়েরা চলতে চলতে যেমন একদিন মন্ত্রীর আকার ধারণ করে,
স্বাভাবিকের তর্জমা আর স্বাভাবিক ধরে রাখতে পারছে না,
কত কিছু যে স্বাভাবিক তা আপেক্ষিকতাবাদ তুলে ধরতে পারছে না,
চাইতে পারার প্রতিভা ইতিহাসে বার বার পরাজিত করে এসেছে দেওয়ার ক্ষমতাকে,
অসীম দুইয়ের যাঁতাকলে বরাবর চরিত্ররাই পদপিষ্ট হয়েছে,
সমস্ত কিছুর উর্ধে মহামারী অতিক্রম করার পর মানব জীবনের মূল্য যে বেশি কিছু নয় তা প্রতিবারের মতো আবার প্রমাণিত,
আমরা বা আমাদের থেকে আমি বেশ বড়ো, এই দাবি পরিলক্ষিত,
সম্পর্কে ঘুন ধরে আর ভোগ করে চারপাশ,
সম্পর্কের নামে সমাজে আজকাল ছড়াচ্ছে নতুন এক সন্ত্রাস,
ফলাফল আসন্ন, জীবনের চেয়ে সহজলভ্য সম্পর্ক আর তার মূল্য হবে আরো নগন্য,
রোজগার আর নিজের নামে সম্পদ ও সম্পত্তি উপার্জন আর কর্মকেন্দ্রিক আনন্দ ও উদযাপন, শুধু এটুকুই জীবনের উদ্দেশ্য আর সার,
এরই মাঝে, নার্সিংহোম আর বৃদ্ধাশ্রমের জঞ্জালে কিছু আশা লুকিয়ে বেঁচে,
সত্য যুগ কবে ফিরবে? শুধু এই অপেক্ষায় ওরা নিঃস্বাস নেয় আর নানান শবদেহ শুধু দেখে।
