সমীকরণ: সব কিছুই স্বাপেক্ষিক

দুরে সরে যাই কিছু কথা বলে,
দুরে সরে যাই, কিছু আদান প্রদান করে,
দুরে সরে যাই, নিজের কথা ভেবে,
আবার কখনো দুরে সরে যাই, তার দিকটা ভেবে,

সামলাতে যদি না পারি, তার দিকের স্রোত,
যদি ধরতে চাই তার নৌকোর পাল,যদি সে না দেয় সামলাতে,
সরিয়ে যদি দেয়, করে অপমান, থাকতে না দেয় সেখানে,
সহ্য করতে যদি না পারি, অভিমান জমিয়ে দু কথা শুনিয়ে আমি ফিরে আসি?

যদি গুলো যদি বাস্তবে ঘটে যায়, তাহলে কি আমিও প্রতিক্রিয়া দিয়ে ফিরে আসবো নিজ নীড়ে?
আবেগ গুলো মিথ্যে নয়, তা জেনেও গলা টিপে হত্যা করবো তাদের?
নাকি আমি বোকা সাজবো, অপেক্ষা করবো আর অপমানিত হয়ে যাবো?
নাকি নিজের সামাজিক ছবিকে সামনে রেখে তাড়িয়ে দেবো ওদের, সময়ের দোহাই দিয়ে সহ্য করে, যাবো এগিয়ে?

আবেগী সমীকরণ গুলো, প্রেক্ষাপটে পরিচিতি খোঁজে,
পরিচিতির ওপর প্রশ্ন উঠতেই, অস্তিত্বে টান পড়তে শুরু করে,
বর্তমান ভবিষ্যতের অনুমান তৈরী করে,
সবার প্রতি অবিশ্বাস ইংরেজিতে ইন্সকিউরিটি তৈরী করে,

তার চেয়ে ভালো এগিয়ে যাই, পরে আসতে চাইলে ইগোকে ঢাল বানাবো,
ব্যক্তিত্তের তরোয়াল দিয়ে আগামীর আবেগ কাটবো,
বোঝাবো আজকের অতীত ছিল কতটা ভয়ঙ্কর, সহ্য করেছি চুপটি করে,
পরিচিতি আর স্বীকৃতির প্রতি প্রশ্ন উঠতে দেখে, আমি পরিচিতিকে নিরাপদ রেখেছি, বোঝাবো বেশ করে,

ভুলের আসলে কোনো ক্ষমা হয়না, দুর্বল কোনোদিন ঠিক করে ক্ষমা করতে পারে না,
শক্তিশালী ভুল করে, কখনো উপলব্ধি করে নিজে আবার কখনো করে না,
ক্লাসের দুর্বল ছেলেটি মার খেতে খেতে শক্তিশালী হলে, কারণকে সে কখনই ভুলে যায় না,
যে দুর্বল থেকে শক্তিশালীতে রূপান্তরিত হয়, সে থাপ্পড় মারা ওই হাতগুলোকে ঘৃনা করতে পারে, স্নেহ করতে পারে কিন্তু ক্ষমা করতে পারে না,

ভুল বোঝাবুঝি হোক বা হোক ব্যক্তিগত স্তরে বোধগম্যতার খামতি,
হেরে যাওয়া দুজনেরই, মাঝে উন্নতি হোক বা আসুক অবনতি,
সময়গুলো ফিরে আসে না, কখনো মানুষগুলো আর ফিরে আসে না,
তিক্ত সময় দুজনেই কাটায়, তাতে লাভ কারোরই খুব একটা হয় না,

একদিন সত্যিই সব ঠিক হয়ে যায়, সময় কারো জন্য থেমে থাকে না,
শূন্যস্থান ভোগ করতে হয় দুজনকেই, এই সত্যকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না,
সীমিত জীবন, সময় কম, জীবনের মূল্য কম আর তার চেয়ে মূল্য কম সমীকরণের,
বোধগম্যতায় স্বচ্ছতার অভাবে, কত শূন্যস্থান চিরস্থায়ী থেকে যায়, ইগো, ইন্সকিউরিটি, প্রেক্ষাপটের পরিচিতি সব ছাই হয়ে বিষর্জিত হয়,

ক্ষমা করা কঠিন, ক্ষমা চাওয়া কঠিন, ঝুঁকে যাওয়া কঠিন, নিজেকে বোকা বানানো কঠিন,
নিজে ভেড়া হওয়া কঠিন, বিশ্বাস করা কঠিন, মনভাঙা সহ্য করা কঠিন,
আবেগী সমীকরণ সামলে চলা কঠিন,
স্বীকৃতি না পাওয়ার পরে ত্যাগ করে যাওয়া কঠিন, তিরস্কার সহ্য করা কঠিন,
পালিয়ে যাওয়া কঠিন, আর সবকিছু মেনে নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে এগিয়ে চলা হলো সবচেয়ে কঠিন,

বাকি সবকিছুই ব্যক্তিত্তের সাথে সমানুপাতিক, ভাঙা সম্পর্কের বোঝা বয়ে বেড়ানো কঠিন,
ওদের নামিয়ে দিয়ে, কাঁধ হালকা করে হাঁটা যেন বেশ আরো কঠিন,
কেউ পারে কেউ পারে না, প্রত্যেকে প্রত্যেকের মতো,
এখানে সবার প্রশ্নপত্র আলাদা, টুকলি চলে না, কিছু ধরে নিয়ে এগোতে গেলে, জীবন সংঘাতে পরিপূর্ন, এই লড়াইকে এড়িয়ে চলা যায় না,

স্থায়িত্ব হাতে নেই, নেই ভবিষ্যৎ হাতে,
এগোতে হবে মার খেয়ে বা স্বেচ্ছায়, সবই যেন সৃষ্টিকর্তার হাতে,
মাঝে আমরা ইচ্ছেদের রাখি, তাদের সাথে তাল মিলিয়ে দুঃখ, কষ্ট, আনন্দদের রাখি,
স্বাপেক্ষিকতা স্বাদ নির্ধারণ করে, কারো কাছে বেশ কঠিন আবার কারো কাছে খুব সহজের পরিভাষা তৈরী করে।

1 thought on “সমীকরণ: সব কিছুই স্বাপেক্ষিক”

Leave a Reply