চড়াই উতরাই আর অভিসন্ধি

বলছে সবাই, সময় প্রয়োজন,
কিছু গড়তে, সময়ের প্রয়োজন,
কিন্তু এই অনুভূতি মাথা চাড়া দেয় কখন?
যে যা করে যাচ্ছে তাতে কি সময়ের, বেশ প্রয়োজন?

প্রেক্ষাপটে সেই চলে আসে অভিষ্ট সিদ্ধের আয়োজন,
পরিকল্পনা আর তার কর্মের গতির সাথে আনুমানিক সময়ের রেখাচিত্র অঙ্কন,
এই অনুমান কি শুধুই মন কে শান্ত রাখার জন্য নাকি বিভ্রান্ত রাখার কৌশল ?
কর্ম সম্পাদনের ধরণ থেকে অভিস্টের দিকে চোখ সারাক্ষন,

প্রথম নিঃশ্বাস না ফেলে যেমন একশো পঞ্চাশতমো নিঃস্বাস ফেলা যায় না,
তেমনি ছোট পদ্ধক্ষেপগুলোর প্রতি গুরুত্ব না দিলে অভিষ্টে পৌঁছনো সম্ভব হয়ে ওঠে না,
তবু দুশ্চিন্তা চাড়া দেয়, পদ্ধতির থেকে চোখ সরে, অন্তিমের দিকে তাকাতে ইচ্ছে হয়,
সে জন্ম হোক জীবনের বা যেকোনো অভিষ্ট সিদ্ধির যাত্রা, দুশ্চিন্তা ঋনাত্মকতার বিষ ধীর গতিতে ছড়ায়,

পদ্ধতির উপভোজ্ঞতা ঋনাত্মকতার হার, বাড়া কমাকে প্রভাবিত করে,
কিন্তু তাকে পাওয়া যায় কোথায়, তার যে ঠিকানা নির্ভর করে পদ্ধতির গভীরতার ওপরে,
আপাতদৃষ্টিতে সর্বজন স্বীকৃত পদ্ধতিদের মুখের কথা আর বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে বেশ পার্থক্য থাকে,
কে কি বলছে, শুধু সেটুকুকেই আধার করে পদ্ধতির ভীত স্থাপন করলে অনেকসময়ে ওই বিশেষ অনুভতির দেখা মেলে,

চোখ কান খোলা রেখে নিজের গতিতে চলতে গেলে যেমন নিজের গতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি,
ঠিক তেমনি, পদ্ধতি রচিত পরিস্থিতি অনুযায়ী বেগ বাড়ানো কমানোর কৌশল রপ্ত করা, সমান্তরালে জরুরি,
এখন এতো জরুরীদের মাঝে যদি হাঁপিয়ে পড়ি, ভালো আর না লাগে, পাল্টে ফেলতে যদি ইচ্ছে হয় গাড়ি?
বেশ জটিল পরিস্থিতি আর তার চেয়ে জটিল, সিদ্ধান্ত নেওয়া আর বিকল্পদের চয়ন করে পরিচালন করা পরিস্থিতি,

কারণ, সীমিত সময়ে শুধু ওই নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোরই বহন করতে হয় ভার,
এসব ভেবে, চারপাশ দেখে যা সহজে হয়, শুধুই তাতে মন সায় দিতে চায় আর,
এই সময়ে, মনের টানে দীর্ঘদিনের শ্রম আর অভিষ্ট সিদ্ধের পরিকল্পনা চলে যায় তলানিতে,
চিন্তন মনন, ঠিক ভুলের উর্ধে ভাবতে বসতে হয় শুধুই পরিস্থিতির ভারসাম্য রক্ষার্থে।

সীমিত সময় প্রত্যেকের, তার মাঝে দৈনন্দিনের দায়িত্ব সামলে মন ঠিক রাখতে হবে,
সবকিছুর মাঝে আজ নিজেকে সময় দিতে হবে,
কার্যক্ষমতার কথা হচ্ছে যখন, তখন শরীর ঠিক রাখতেই হবে,
সংসারের মাঝে চিত্রতারকাদের মতো জেদ না এলে, কর্মক্ষমতা খুব শিগগির লোপ পাবে,

ক্লান্ত শরীর, ক্লান্ত মনের জন্ম দেবে,
সে মন শুধুই অভিষ্ট ত্যাগের রায় দেবে,
অভিষ্টরা সমান্তরালে অক্সিজেন না পেলে, পরিচিতি মারা যাবে,
আক্ষেপ আনার অনুমতি সেদিন থেকে পাওয়া যাবে না, যেদিন অভিষ্ট ত্যাগের পরামর্শ গৃহীত হলো মনে,

সবকিছুই পরিচিতি, সমস্ত কর্মই পরিচিতির অঙ্গ প্রত্যঙ্গ,
যেমন মাত্রার বেশি গৃহীত অন্নের সাথে রয়েছে শরীরে জমা মেদের সম্পর্ক,
সময় প্রয়োজন, গড়ার জন্য যেমন, তেমনই প্রয়োজন অভিষ্টদের বাঁচিয়ে রাখার,
পরিস্থিতি হয়তো বিরুদ্ধে আজ কিন্তু কিভাবে উপেক্ষিত হবে আগামী দিনের সম্ভাবনার,

কেউ পিছিয়ে নেই, নাই কেউ এগিয়ে, প্রত্যেকে চলছে তাদের নিজেদের গতিতে,
মাঝে ইচ্ছেগুলোকে রোজগার করে নিতে হয়, এটুকুই খেলার নিয়ম, এই পৃথিবীতে
সক্ষমতা, অক্ষমতা বিচার্য্য, কিন্তু সে বিচার করবে কে?
এই পৃথিবীতে তারাও স্বীকৃত আজ, যারা শুধুই ব্যর্থ হয়ে চেষ্টা করে গেছিলো যে,

মূল্যায়ন নির্ভর করে, যে মূল্যায়ন করছে তার মস্তিষ্কের উৎকৃষ্টতার ওপর,
উপলব্ধি কতটা করতে পেরেছে পর্যবেক্ষণদের, সঙ্গে প্রাপ্ত দূরদৃষ্টতার ওপর,
যত মত ততো পথের দেশে, আর বিষাদগ্রস্ততার স্বাদের কোনো স্থান নেই,
আত্মসমর্পনের শেষ অধ্যায় লেখা হয়, মননে সব শেষের সাথে যখন দেখা হয় আর ইঙ্গিত আসে ছাড়ার কিছুই আর বাকি নেই,

গন্তব্যের চেয়ে চয়ন করা রাস্তা বা পথ অনেক বড়ো,
রাস্তায় ভালো করে হাঁটলে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে, দুর্ঘটনা মোকাবিলার ক্ষমতা আসে, দক্ষতা বাড়ে আরো,
গন্তব্যে পৌঁছনো আর তার পরের রাস্তা মসৃন,ঠিক অতিক্রম হয়ে যায়,
ক্লান্তি আর ভাবনা কোনোটাই আর ঠিক আসে না, দেখা ঠিক হয়ে যায়।

Leave a Reply