কারণ – এক অজুহাত

কেউ বলছে মাদক দ্রব্যের বিক্রি বেড়েছে, তাই অপরাধ বাড়ছে,
কেউ বলছে বেকারত্ব বেড়েছে, তাই অপরাধ বাড়ছে,
কেউ বলছে শিল্প আর কর্মসংস্থান সেভাবে হয়নি, তাই অপরাধ বাড়ছে,
আবার কেউ বলছে, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে, তাই বিষাদ আর অপরাধ দুই বেড়ে চলেছে,

কখনো পোশাক, কখনো মিশুকে স্বভাব, কখনো নীল আবার কখনো আশ্রয়ে অবসাদ,
অন্যায়কারীর মানবাধিকার কারণ আঁকড়েছে, সময় অনুপাতে পাল্টেছে তাদের, তুলে ধরা তা হয়েছে নিখাদ,
আইন, শৃঙ্খলা, নিয়ম, প্রথা সবই মানব সমাজ সমান ভাবে পরিচালিত করার নানান দিক, আজ যেন আচরণে উন্মাদ,
অধঃপতন ঘটার পর অধঃপতনের কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাদের উন্মোচনে, বৃহত্তর ছবিতে শুধুই অবসাদ,

মানুষ এই পৃথিবীর একমাত্র প্রজাতি, যারা নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচার জন্য স্বাধীন,
সৃষ্টিকর্তা একমাত্র মানুষ নামক জাতিকেই সম্পূর্ণ সম্ভাবনায় ভরে দিয়েছেন, অন্যান্য প্রজাতিরা যেখানে তাদের প্রবৃত্তির অধীন,
প্রয়োজন জ্ঞাণহীন বিত্তশালী হওয়ার স্বপ্ন, স্বল্প আয়াসে নাম আর কাগজ পাওয়ার স্বপ্ন, আর বাস্তবের থাপ্পড়ে, না পাওয়ার কষ্টের কারণ কি হতে পারে?
মানসিকতার মধ্যে তুলনা আর সম্পদের নাম মূলত কাগজের লক্ষ্য স্থাপন করাটা কি কোনোদিন, কারণ হতে পারে?

না পাওয়াদের জন্ম হয় পাওয়ার ইচ্ছেদের থেকে, আর বিষাদের ধ্বংসাত্মক দিকের জন্ম হয় মাধ্যমজ্ঞানহীন ভাবে পাওয়ার প্রয়াসগুলো থেকে,
ভ্রম রচনা করা হচ্ছে, যাতে ভ্রমিত থেকে অবলুপ্তি পায় অক্ষরজ্ঞান, সমৃদ্ধির নাম যাতে নানান রঙিন কাগজগুলোর সাথে জড়িয়ে থাকে, রঙিন কাগজই আজ সমস্ত মুশকিল আসান,
যে কাগজগুলোতে শুধুই কথা দেওয়া হয়, সেই কথাদের মাঝে কথার যেন আজ কোনো মূল্য নেই, অবিকৃতদের পাতায় শুধুই ওরা থাকে,
সঠিক ঠিকানা অনেকে জানলেও, বাস্তবে মুখবন্ধ সবার থাকে,

বইতে অন্যায়ের শ্রেণীবিন্যাস করা রয়েছে, প্রচুর সমাজবিজ্ঞানী নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, বিভাজনের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে সুবিধে খানিকটা হবে ভেবে,
শরীরকেন্দ্রিক অপরাধগুলির সংখ্যা বাড়লেও কারনগুলো আজ গুরুত্বপূর্ণ, পদক্ষেপগুলো কোথাও যেন পিছিয়ে পড়েছে,
তাই কারণ যাই ছিল তার সাথে পদক্ষেপের মেলবন্ধন তাল মিলিয়ে না ঘটায় অপরাধীর সাহস বেড়েছে,
পুষ্টি ওরা সমাজ থেকেই নিচ্ছে, নিজেদের উপভোজ্ঞতার মান নিম্নে নামিয়ে আনছে, সমান্তরালে আরেকটা পৃথিবী শুধুই শূন্যস্থান হাতড়ে চলেছে,

অপরাধের কারণ মানসিক বিকৃতি, মস্তিস্ক বিকৃতি, অশিক্ষা আর শাস্তি অনেক দেরিতে বা বহণযোগ্য শাস্তি বা কখনো মূল্যায়ন পদ্ধতিও বটে,
বাঘ যখন মানুষখেকো হয়ে ওঠে তখন ওই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির অংশকেও কড়া শাস্তির মুখ দেখতে হয়, বিকৃতি ওদেরও ঘটে,
বিকৃতি এলে ওরা আর বৃহত্তর প্রজাতির অংশ নয়, তাইতো প্রজাতির চরিত্রবিরুদ্ধ কাজগুলো ওদের দ্বারা খুব সহজেই বাস্তবায়িত হয়,
একমাত্র কর্মফল ভোগ করা ছাড়া, সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাহলে কি আজ ব্যর্থতা বর্তমানে, ভবিষ্যতের অপরাধীদের মনোবল নষ্ট করার অভীষ্ট সিদ্ধই বা হয় কিভাবে ?,

সন্দীগ্ধদের পাওয়া যায় না, তখন তারা সুস্থ,
অন্যায় করার সময়ে ওরা বেকার, নেশাগ্রস্ত, শিল্পায়ণহীন, হয়ে পড়ে অসুস্থ,
প্রমান ও প্রমাণিত করার মাধ্যম যেন বর্তমানের অবলুপ্তির বীজ বপন করছে,
অধঃপতিত সবচেয়ে উঁচু স্থান, খুব নাম আর খুব সম্মান, বাকিরা থিতিয়ে পড়ছে,

রঙিন কাগজ আর ক্ষমতার দিক থেকে ওরা অনেকটা নিজেদের এগিয়ে রাখছে,
ভোগ বিলাসের মধ্যিখানে শ্রী দর্শন ক্ষনিকের, আজ সাধারণ বিষয় হয়েছে,
মহাভারতের যুধিষ্টিরের মতো মহাত্মার সাথে ওদের দিন দিন মিল বাড়ছে,
উদাসীন সবাই, গা ঢাকা দিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ আর ব্যক্তিগত রঙিন কাগজের সংগ্রহশালা, ভরে তোলা চলছে,

বিকৃতি ও ভ্রম দূরীকরণের জন্য শিক্ষা আর দর্শনের দিকে ঝোঁক থাকা আর তাদের প্রসার ঘটানো খুব জরুরি,
এরকম কথা অনেকে বলে থাকলেও, রঙিন কাগজ যেকোনো উপায়ে ভোগ করার ইচ্ছে গ্রাস করেছে পুরোপুরি,
বেকারত্ব ছিল আগেও, ছিল না শিল্পায়ন, মাদকের সরবরাহ ছিল আগেও, আজ জন্যসংখ্যার সাথে সে, তাল মিলিয়েছে মাত্র,
নীলের সরবরাহ ছিল তখনও, তবু অন্যায় বোধ ছিল অস্তিত্বে, আজ প্রচুর কাগজের ভিড়ে তলানিতে বাকি সব পাত্র,

আধার জ্ঞান ফুরিয়েছে কারণ প্রজনীয়তা হারিয়েছে,
কারণগুলোকে আঁকড়ে ধরে অপরাধীদের মানবাধিকার নতুন অক্সিজেন পেয়েছে,
গুরুত্ব পেয়েছে শ্রীঘর, আর সেখানে বেড়াতে যাওয়া ব্যক্তিত্তরা,
গুরুত্ব, সম্পদ, প্রতিষ্ঠা সবই পাওয়া যাচ্ছে যখন, তখন হারিয়ে যাওয়াই ভালো বোধশক্তি আর নৈতিকতা,

ধ্বংস তবেই শীঘ্র হবে হয়তো, সমান্তরালে নতুন সৃষ্টি হবে,
আজকের পদ্ধতিতে সমাজ টিকোতে, শাস্তি আদায় করতে, একমাত্র ধৈর্য সহকারে অভিস্টের সাথে থাকতে হবে,
দৃষ্টান্ত দুজনেই গড়বে, শাস্তি আদায় করে নিয়ে যে আসবে আর যে শাস্তি পাবে,
একমাত্র এই দৃষ্টান্তই, বর্তমানে আগামীদের অপরাধের প্রবণতা কমাতে পারবে,

অপরাধ প্রবণতা ছিল বরাবর, ছড়িয়ে ছিটিয়ে সংখ্যায় ছিল কম,
আজ যেন একতার সাথে প্রসার ঘটেছে ওদের, হাতিয়ার হিসেবে রয়েছে দুই স্তবকের মধ্যিখানের শূন্যস্থল,
আইন, প্রশাসন, উকিল শ্রী, পরাক্রম কারো কম নয়, কম নেই বল,
বছর ঘুরুক বা ঘুরুক দশক, প্রতিকারে খালি আজ একনিষ্ঠ ভাবে সম্মিলিত রোশ, অপেক্ষায় ফলাফল………. 

Leave a Reply