অন্ধকারের তকমাকরণ

নামের সাথে চাওয়া পাওয়া, নামের সাথে দুঃখ,
নামের সাথে প্রত্যাশা আবার কোথাও নামের সাথে মুক্ত,
তকমা ছাড়া নেই স্বীকৃতি কিন্তু তকমা ছাড়া রয়েছে অস্তিত্ব,
এ যেন পরিচয়পত্রহীন নাগরিক, অবাধ প্রবেশধিকার সর্বত্র,

স্মৃতি দুর্বল তাই ঝুলিতে থাকা তকমা কোনো এক কোনায় পড়ে,
আগামী কি আসতে চলেছে, তার তকমাকরণের প্রচেষ্টা বেশ জোরে,
নতুনত্বের সাথে পরিচয় হোক, পুরাতনের হাত ধরে,
ঝোলা বহন করা হবে, খালি করলে যদি বিপদ আসে তেড়ে,

এই বিপদের কোনো সংজ্ঞা নেই, কেউ সংজ্ঞায়িত করেনি, কোনো নাম নেই, তাও কেমন অস্তিত্বে,
যেন আলোয় ভরা ঘরের অন্ধকার এক কোনা, নিজের জায়গা সে ঠিক নেয় করে,
হারানোর ভয় নেই, পাওয়ার আশা নেই, তবু চিন্তা মুক্ত নয়,
কে বলে আমরা কিছু জানি না, যেনেও সর্বত্র যেন কিছুই জানি না ময়,

নাম দেওয়ার ক্ষমতা নেই ভাবারাও নাম দেওয়ার কথা ভাবে,
অন্ধকার কোনাগুলো দিনের শেষে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করে,
সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই না, তাও কিভাবে সঙ্গে থাকে?
ওদের কি স্বীকৃতি লাগে না নাকি তারা স্বীকৃতির নামে চিন্তাজগতে আলোড়ন তোলে?

পড়ে থাকে এক কোনায় শুধু ঠিক সময়ের অপেক্ষা করে,
চুপচাপ থেকে ওরাও আলোতে কত কি শেখানোর চেষ্টা করে,
বেড়ে ওঠার সাথে লড়াই করা যায় না তাই বোধহয় বোঝা যায় না কিভাবে ওরা বড়ো হয়,
নিজেকে বট গাছের তকমা না দিতে চেয়েও সেখানে অন্ধকার হয়,

অস্পষ্টতা দেখা করায়, না দেখা অনেকের সাথে,
নিজের নিয়ন্ত্রণে ঢিল দিলে কত কিছুরই না দেখা মেলে, যা গোচর হয়নি আগে,
নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছেই কি আসামী নাকি ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা আসামীর ভান করে?
দুটোই সীমিত সমৃদ্ধির দ্বারা পরিচালিত, কাজেই বিচার করার চেষ্টা শুধুই কি বৃথা ছিল ওদের?

আলোর মাঝে অন্ধকারের অস্পষ্টটা তৈরী আর অন্ধকারের মাঝে আলোর,
নামগুলো শুধু উজ্জ্বল আর ছায়াগুলো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে ভালো,
সবকিছুর তকমাকরণের প্রচেষ্টা দেখা করায় একসময়ে যারা গেছিলো হারিয়ে,
নাম পায়নি, তকমা পায়নি, স্বীকৃতি পায়নি তবু তারা না গিয়ে কোথাও যেন ছিল লুকিয়ে,

সঙ্গী ছিল চিরন্তন, না জেনে কি জানি কি সব গেলো বুঝিয়ে,
বুঝেও না বুঝে খুঁজে যাওয়া হলো নাম, আলো আর না জানা কত কি জাঁকিয়ে,
নাম নেই দেরও নাম ছিল একটা, চৈতন্য হয়নি আর কি,
কেউ দেখালেও দেখি না ওদের, সময় দেয় ওরা, এছাড়া আর তাদের দোষ কি? 

Leave a Reply